তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে কুর্দিরা
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা শুনতে পিকেকের কারাবন্দি নেতা আবদুল্লাহ ওকালানের ছবি নিয়ে উল্লাস করছেন কুর্দিপন্থি যুবকরা। ছবি: সংগৃহীত
সশস্ত্রগোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) তুরস্ক সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে।
সংগঠনটির কারাবন্দি নেতা আবদুল্লাহ ওকালানের আহ্বানে শনিবার (১ মার্চ) অস্ত্র ছাড়তে রাজি হয়েছেন পিকেকে সদস্যরা। খবরটি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
শনিবারের এক বিবৃতিতে পিকেকে জানায়, সংগঠনের ওপর হামলা না করা হলে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত আগ্রাসনে আগ্রহী নয় পিকেকে।
১৯৯৯ সালে থেকে কারাবন্দি ওকালান সম্প্রতি কুর্দিপন্থি রাজনীতিবীদদের চিঠি পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপরই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পিকেকে।
এ ছাড়া পিকেকে সংগঠনের বিলুপ্তির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ওকালানকে গত ২৬ বছর যাবত তুরস্কের ইমরালি দ্বীপে নির্বাসনে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে পিকেকে প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের কুর্দিস্থানপন্থি নেতারা।
সাক্ষাতের পর যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সংগঠনের বিলুপ্তি ঘোষণায় একমত হয়েছেন ওকালান।
তুরস্কের সঙ্গে পিকেকের প্রায় চার দশকের বিরোধ। এই বিরোধের জেরে সৃষ্ট সহিংসতায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ট ও তুরস্কের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল এমএইচপি পার্টির নেতা দেভ্লেত বাচেলির নেতৃত্বে এই যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া নজরদারিতে রাখা হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই আঙ্কারা। কুর্দি জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষ এই ঘোষণাপত্র বড় পর্দায় দেখতে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে সম্প্রতি পিকেকের কমান্ডার দুরান কালকান তুরস্কের ক্ষমতাসীন একেপির বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তোলায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি
কমেন্ট বক্স